সম্পাদকীয়

'নববর্ষ সংখ্যা' হিসেবে প্রকাশের কোনো পরিকল্পনা না থাকলেও নতুন বছরকে পরবাসের ৫৯তম সংখ্যা দিয়ে স্বাগত জানাই; আর জানাই আপনাদের সবাইকে নতুন বছরের জন্য শুভ কামনা।

একটা খুব দুঃখের খবর হল আমাদের প্রিয় মীজানদা, মীজান রহমান, আর নেই। পরবাসের কাজে লিপ্ত থাকার একটা অন্যতম প্রাপ্তি হল মীজানদার মতো মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া। তাঁর লেখা তো আমাদের সবাইকে অনেক চিন্তার খোরাকের সঙ্গে অনেক আনন্দ দিয়েছে। কিন্তু তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগত আলাপ-আলোচনা, বা নিখাদ আড্ডা, যে কত আনন্দের সে তাঁর অগণিত পরিচিত জনেরা জানেন। যদিও আশা খুব একটা করিনি, কিন্তু আমি মাঝে মাঝেই তাঁকে অনুরোধ করে গেছি সাধারণ পাঠকদের জন্যে হাইপার-জিওমেট্রিক ফাংশান-এর ওপরে একটা লেখা দিতে! কারণ কেউ যদি এরকম লেখা লিখে উঠতে পারেন তো মীজানদাই পারতেন। বলা বাহুল্য, তিনি বোঝেন অনেক বেশি, তাই সস্নেহে এই উপরোধ কাটিয়ে গেছেন।

বাংলাইংরেজি লেখার সামগ্রিক সূচির দিকে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করাতে চাই--আশা করব আপনারা অনায়াসে পরবাসে প্রকাশিত সব লেখা সহজে পেয়ে যাবেন। হয়তো এভাবে বেশ কিছু প্রিয় লেখককে খুঁজে পাবেন। জানাবেন আমাদের সে-খবর। কীভাবে এই সূচিকে আরো বেশি ব্যবহারযোগ্য করা যায় সে-ব্যাপারেও আপনার মন্তব্য জানাবেন।

আপনাদের হয়তো মনে আছে কীভাবে 'প্রতিদিন' পত্রিকা পরবাস ও লেখকদের বিনা অনুমতিতে পরবাসে প্রকাশিত সুচিত্রা মিত্রর সাক্ষাৎকারটি বেশ তারিয়ে তারিয়ে, ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করেছিল। সেই ট্রাডিশন চলছেই--'প্রতিভাস' সম্প্রতি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের উপর নানা লেখার একটি সঙ্কলন বের করেছে--তাতে পরবাসে প্রকাশিত দু'টি অন্তত লেখা রয়েছে। সেখানে পরবাস-এর নাম উল্লেখের বালাই তো নেইই, উল্টে ইন্দ্রনীল দাশগুপ্তর লেখাটির কিছু অংশ বাদ দেওয়া হয়েছে--কেন, তার বিশেষ যুক্তি খুঁজে পাওয়া যায় না। অথচ, অনায়াসেই ইমেলের মাধ্যমে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সঠিক ও নিয়মমাফিক সবকিছু করা যেত। লেখকও সুযোগ পেতেন লেখাটিকে প্রয়োজনবোধে কালোপযোগী করে তুলতে। আশাকরি এই ধারণাটি 'প্রতিভাস'দের কাছে যুক্তিসঙ্গত মনে হবে।



(পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫)